আচমকাই চাঙা হয়ে গেল কলকাতার বাড়ি বেচাকেনার বাজার। হই হই করে ফ্ল্যাট কিনলেন বাসিন্দারা। বলা হচ্ছে গত আট বছরে এতটা ভালো পরিস্থিতি এর আগে হয়নি। ২০২৪ সালের একেবারে প্রথম পর্যায়ে কলকাতায় বাড়ির বাজার যথেষ্ট ভালো।
কতটা চাঙা হল বাড়ির বাজার?
পরিসংখ্য়ান বলছে জানুয়ারি মাস থেকে জুন মাসের মধ্য়ে সব মিলিয়ে ৯১৩০টি বাড়ি বিক্রি হয়েছে কলকাতায়। গত বছর এই সময়কালের মধ্য়ে অর্থাৎ বছরের প্রথম ৬ মাসে ৭৩২৪টি বাড়ি বিক্রি হয়েছিল। এদিকে ২০১৭ সালে দেখা গিয়েছিল বছরের প্রথম ৬ মাসে ৮১০৯টি বাড়ি বিক্রি হয়েছিল। এবারের বাড়ি বিক্রির নিরিখে আগের অনেকগুলি বছরকেই ছাপিয়ে গিয়েছে। এককথায় কোভিড ও তার পরবর্তী পরিস্থিতিতে কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাড়ির বাজারে মন্দা দেখা দিয়েছিল। সেই নিরিখে এবার কিছুটা হলেও চাঙা হয়েছে বাড়ির বাজার। তবে ২০১৬ সালে অবশ্য় এর থেকেও বেশি বাড়ি বিক্রি হয়েছিল কলকাতায়। সেই বছর সব মিলিয়ে ১০,৩৩৯টি ইউনিট বিক্রি হয়েছিল। প্রসঙ্গত এখানে বাড়ি বলতে রেসিডেন্সিয়াল ইউনিটকে বলা হচ্ছে।
এদিকে এই বাড়ির বাজার চাঙা হওয়ায় কলকাতার ডেভেলপার্সরাও যথেষ্ট উৎসাহিত। এবছর তারা সব মিলিয়ে ১০,৮২৯টি ইউনিট তৈরি করেছিলেন। আর ২০১৭ সালে কলকাতায় সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছিল ৯৭৬৪টি ইউনিট।
রিয়েল এস্টেট কনসালটেন্সি ফার্ম নাইট ফ্রাঙ্ক ইন্ডিয়ার দাবি মূলত স্ট্যাম্প ডিউটিতে ছাড়ের জেরেই এই বাড়ি কেনার প্রতি মানুষের উৎসাহ বেড়ে গিয়েছিল।
তবে টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে জানা গিয়েছে, চলতি মাস থেকে রাজ্য সরকার এই স্ট্যাম্প ডিউটিতে ছাড়ের ব্যাপারটি তুলে দিয়েছে। এদিকে কলকাতা শহরের কোথায় বাড়ির চাহিদা কেমন সেই তথ্য়ের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে, দক্ষিণ কলকাতায় বাড়ির চাহিদা ৩৭ শতাংশ, উত্তর কলকাতায় বাড়ির চাহিদা ২৬ শতাংশ ও রাজারহাটে বাড়ির চাহিদা ২১ শতাংশ।
তবে বাড়ির চাহিদা বেড়েছে মানেই যে বাড়ির দাম কমে গিয়েছে এমনটা নয়। দেখা যাচ্ছে বাড়ির দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে।
এদিকে নিজেদের জন্য একটা সুন্দর বাড়ি এই সাধটা থাকে অনেকেরই। কিন্তু সাধ থাকলেও সাধ্য় থাকে না অনেকের। তবে অনেকেই যারা কর্মসূত্রে কলকাতায় আসেন তাঁরা চেষ্টা করেন যাতে কলকাতায় একটা বাড়ি কিনে নেওয়া যায়। সেই আশা পূরণেপ জন্য কলকাতায় একটি ফ্ল্যাট, এক কামরা, দু কামরা বা তিনকামরার কিনে রাখেন।