সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো থেকে গ্রেফতার হয়েছে খলিস্তানি জঙ্গি হরপ্রীত সিং ওরফে হ্যাপি পাসিয়া। তার সম্পর্কে এবার বড় ধরনের তথ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। এফবিআই জানিয়েছে, হরপ্রীত সিং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) এবং খালিস্তানি জঙ্গি সংগঠন বব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনালের (বিকেআই) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছিল। হরপ্রীত সিং অবৈধভাবে আমেরিকায় প্রবেশ করেছিল। এফবিআই এবং ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস (ইআরও) ইউনিট যৌথভাবে তাকে গ্রেফতার করে। (আরও পড়ুন: অসমের পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপির জয়জয়কার, বিধানসভা ভোটের আগে 'গ্রাম দখল' হিমন্তের?)
আরও পড়ুন: RAW নিয়ে দাবি, ভারতের সঙ্গে 'শত্রুতায়' বদ্ধপরিকর ইউনুসের 'আতঙ্কিত' শিষ্য?
এফবিআইয়ের স্যাক্রামেন্টো অফিস এক বিবৃতিতে বলেছে, 'হরপ্রীত সিং একজন কথিত সন্ত্রাসী। সে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল। এফবিআই এবং ইআরও তাকে স্যাক্রামেন্টো থেকে গ্রেফতার করেছে। সে পাকিস্তানের আইএসআই এবং খালিস্তানি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনালের সাথে একযোগে কাজ করছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।' এই আবহে ফের একবার প্রমাণিত হল যে আইএসআই ভারত বিরোধীদের মদত দিয়ে এখানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় এবং জঙ্গিদের সরাসরি সাহায্য করে। এদিকে এফবিআই জানিয়েছে, হরপ্রীত সিং দীর্ঘদিন ধরে বার্নার ফোন এবং এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজের পরিচয় গোপন করছিল। ভারতের তরফ থেকে এর আগে আমেরিকাকে জানিয়েছিল যে পঞ্জাবে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় খোঁজা চলছিল হ্যাপির। পঞ্জাব পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজিপি) এই গ্রেফতারিকে আইএসআই সমর্থিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযানের একটি বড় সাফল্য হিসাবে বর্ণনা করেছেন। (আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে পাক স্বপ্ন ডোবাল ভারত, লঙ্কার ঝাঁঝে চোখে জল ইসলামাবাদের)
আরও পড়ুন: রাজৌরিতে অধ্যাপককে মারধরের অভিযোগ জওয়ানদের বিরুদ্ধে, তদন্তের নির্দেশ সেনা
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, গত দু'বছরে পঞ্জাবে ১৪টি গ্রেনেড হামলা, একটি আইইডি বিস্ফোরণ এবং একটি আরপিজি (রকেট চালিত গ্রেনেড) হামলা সহ অন্তত ১৬টি সন্ত্রাসবাদী ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল হরপ্রীত সিং। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অমৃতসরের গুমতলা পুলিশ ফাঁড়ির কাছে কার্বুরেটর-ভিত্তিক আইইডি ব্যবহার করে এক সিনিয়র পুলিশ অফিসারের গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল এই হ্যাপি। তার আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ১০-এ এক অবসরপ্রাপ্ত পঞ্জাব পুলিশ অফিসারকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলাতেও নাম উঠে আসে হ্যাপির। এই মামলায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) হ্যাপিকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্যে ৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
হরপ্রীত সিংয়ের অপরাধমূলক কর্মজীবন জগ্গু ভগবানপুরিয়া গ্যাং দিয়ে শুরু হয়েছিল, তবে পরে তিনি পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসী হরবিন্দর সিং সান্ধু ওরফে রিন্ডার সঙ্গে হাত মেলায়। এই সময়ে, বব্বর খালসা একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেটর হিসাবে বিবেচিত হয়। তারা একসাথে পঞ্জাবে মদ মাফিয়া, ব্যবসায়ী এবং হিন্দু নেতাদের নিশানা করে চাঁদাবাজির একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক স্থাপন করেছিল। নেটওয়ার্কটি অগ্নিসংযোগ, গুলি এবং ভয় দেখিয়ে অর্থ সংগ্রহ করত। পঞ্জাব পুলিশের রিপোর্টে হরপ্রীতের মার্কিন সহযোগী গুরদেব সিং জয়জল পেহলওয়ান এবং গুরপ্রীত সিং ওরফে গোপী নওয়ানশাহরিয়া এবং জার্মানির স্বরণ সিং ওরফে জীবন ফৌজিয়ার নামও রয়েছে। হরপ্রীত সিংকে গ্রেফতার করার পর তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যর্পণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। পঞ্জাব পুলিশ এবং এনআইএ প্রয়োজনীয় নথি মার্কিন সংস্থাগুলির কাছে পাঠিয়েছে। ভারত সরকার আশা করছে যে তাকে শীঘ্রই ভারতে প্রত্যর্পণ করা সম্ভব হবে।