বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআই(এম) এবং তৃণমূল কংগ্রেস - তাঁর থেকে 'আর্থিক সুবিধা' নিয়েছিলেন চার দলের কয়েকজন নেতা। তালিকায় আছেন আরও কয়েকজন 'প্রভাবশালী' ব্যক্তি। বিষয়টি সিবিআই এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে বলেও কোনও লাভ নেই। এমনই অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখলেন সারদা চিটফান্ড মামলায় মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন।সেই চিঠিতে সুূদীপ্ত বলেছেন, ‘আমি, শ্রী সুদীপ্ত সেনা, সারদা গ্রুপ অফ কোম্পানিজের মালিক এবং কর্ণধার, জানাতে চাই যে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি আমার থেকে বিরাট অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। (তাঁদের বিরুদ্ধে) কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ সেই চিঠির অবশ্য সত্যতা যাচাই করেনি ‘হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা’। চিঠিতে সারদার মালিক আরও বলেছেন, ‘তালিকায় সিপিআই(এম), বিজেপি, কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা আছেন। সিবিআই এবং রাজ্য পুলিশকে দয়া করে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানাচ্ছি।’ আপাতত আলিপুরের প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে আছেন সুদীপ্ত। গত এক ডিসেম্বরের সেই চিঠিতে সারদার কর্ণধার আরও বলেছেন, ‘এসব বিষয়ে সিবিআইকে বলেছিলাম আমি। এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে যাঁরা খুব নৈতিকতার কথা বলছেন, তাঁরা আসলে গরিব মানুষদের সঙ্গে জোচ্চুরি করেছেন। বিষয়টির সঠিক তদন্তের জন্য আমি সিবিআই এবং রাজ্য পুলিশকে আর্জি জানাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়ার জন্য সেই চিঠিটি বন্দির পিটিশন হিসেবে দাখিল করা হয়েছে।যদিও সারদার কর্ণধারের থেকে 'আর্থিক সুবিধা' পাওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘এটা হাস্যকর। যে মানুষরা সারদা দুর্নীতির জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন, তাঁদের জন্য লড়াই করছেন কংগ্রেস এবং সিপিআই(এম)-এর নেতারা।’ একই সুরে কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, দলকে কালিমালিপ্ত করতে ‘সস্তা রাজনীতি’ করা হচ্ছে। বিজেপিরও দাবি, ‘পুরো বিষয়টি নিয়ে নোংরা রাজনীতি’ করা হচ্ছে। সিবিআই ‘সত্যি’ বের করবে। তবে এ বিষয়ে তৃণমূলের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। জেলের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানান, নিয়ম মোতাবেক চিঠিটি এখনও এডিজি পীযূষ পান্ডের (কারা) কাছে পাঠানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সংবাদসংস্থা পিটিআইযের তরফে এডিজির (কারা) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও জবাব দিতে রাজি হননি।