অবশেষে হয়তো ভারত-চিন সম্পর্কের বরফ গলছে। চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রকের থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর প্যাংগং লেকে ডিসএনগেজমেন্ট শুরু করেছে দুই পক্ষ। বুধবার থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নয়াদিল্লিতে ওয়াকিবহাল মহল থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া গাড়ি ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে প্যাংগং লেকের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে। চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে মুখপাত্র য়ু কিআন বলেন যে সামরিক স্তরে নবম পর্যায়ের আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার থেকে দুই দেশই ধাপে ধাপে ও একসঙ্গে সেনা সরাচ্ছে বলে চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে। তবে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় সূত্র থেকে জানা গিয়েছে যে বাহিনী এখনও আগের জায়গাতেই আছে। ট্যাঙ্ক ও আর্টিলারি সরানো হয়েছে। এই নিয়ে সরকারি ভাবে এখনও কোনও বিবৃতি দেয়নি ভারত। ঠিক কি প্রক্রিয়ায় সেনা সরানো হচ্ছে সেটা নিয়ে বিস্তারিত বলা হয়নি কিন্তু বিশেষজ্ঞদের আশা গত নয় মাস ধরে পূর্ব লাদাখের বিভিন্ন স্থানে দুই দেশের মধ্যে যে অচলাবস্থা চলছে, সেটা হয়তো এবার কেটে যাবে। দুই দেশের মধ্যে নবম পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল ২৪ জানুয়ারি। সেখানে কথা হয় যে যত দ্রুত সম্ভব উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করা হবে সেনার সংখ্যা কমিয়ে। সীমান্তে শান্তি, সৌহার্দ্য বজায় রাখতে ও যাতে সেনাবাহিনীরা সংযম প্রদর্শন করে, তার জন্য দুই দেশই চেষ্টা চালাবে বলে চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে। প্যাংগং সহ লাদাখের বেশ কিছু অঞ্চলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সেনা মোতায়েন করে রেখেছে ভারত ও চিন। পূর্ব চুক্তি ভেঙে লাল ফৌজ প্রকৃত সীমান্ত রেখা অতিক্রম করার চেষ্টা করার দরুনই ভারতকেও পালটা ব্যবস্থা নিতে হয়। গত নয় মাস ধরে এই পরিস্থিতি চলছে। এর মধ্যে গালওয়ানে হয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। বৈঠকের পর বৈঠকে কোনও সমাধানসূত্র বেরোয়নি। ক্রমশ সম্পর্কে জমেছে মেঘ। অবশেষে সেই মেঘ কাটে কিনা, সেটাই দেখার।