কয়েকদিন আগেই তৃতীয়বারের জন্যে পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী পদে ইনিংসের সূচনা করেছিলেন অমিত মিত্র। তবে অমিতবাবুর তৃতীয় ইনিংস দীর্ঘমেয়াদী হবে বলে মনে হয় না। সূত্রের খবর, শারীরিক কারণে দীর্ঘ দশ বছর রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হিসেবে থাকার পর মন্ত্রিত্ব থেকে অবসর নেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন অমিত মিত্র। জানা গিয়েছে, নভেম্বরে ছয় মাসের মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে সরে দাঁড়াবেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন অমিতবাবু। মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর বিদেশে নিজের মেয়ের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর পরিকল্পনা করছেন অমিত মিত্র।এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে পরবর্তী অর্থমন্ত্রী বেছে নেওয়া। জানা গিয়েছে, শারীরিক কারণেই বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড়াননি অমিতবাবু। তবে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসে মমতা ইচ্ছা প্রকাশ করেন যাতে অন্তত ছয়মাস অর্থমন্ত্রকের দায়িত্ব অমিত মিত্র সামলে দিন। প্রসঙ্গত, ২০১১ সাল থেকেই রাজ্যে অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য থেকেছে অমিতবাবুর তত্ত্বাবধানে। সেই শুরু থেকে মমতার পাশে থেকেছেন। তাই এই জয়ের পরও অমিতবাবুকে পাশে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে মন্ত্রিত্বের চাপ নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থায় নেই অনিতবাবু। ৭ জুলাই তিনি নিজে বাজেট পেশ করতেও পারেননি।এখন মুখ্যমন্ত্রীকে বেছে নিতে হবে পরবর্তী অর্থমন্ত্রীকে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মমতা এখনও কাউকে বেছে নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। তিনি নিজেও অর্থ দফতরের দায়িত্ব সামলাতে পারেন। তবে করোনা আবহে যদি উপনির্বাচনে বিঘ্ন ঘটে, সেক্ষেত্রে আবার সব অনিশ্চিত হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে অমিত মিত্রকে অন্তত অর্থ দফতরের উপদেষ্টা হিসেবে রাখার বিষয়ে ভাবনা চিন্তা চালচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া অর্থনীতিবিদদের মতামত জানানোর জন্যে একটি মঞ্চ গঠন করা হবে। অভিজ্ঞ অফিসারদের নিয়ে তৈরি করা হবে ব্যবস্থা।২০১১ সাল থেকে খড়দহ আসনে লড়ে এসেছিলেন অমিত মিত্র। তবে এবার তিনি ভোটে দাঁড়াননি। বদলে তৃণমূলের টিকিটে সেখানে লড়েছিলেন সেখানকার পুর–প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান কাজল সিংহ। তবে ফল প্রকাশের আগেই কোভিড তাঁর প্রাণ কেড়ে নেয়। এই আভহে প্রাথমিক ভাবে আলোচনা করা হচ্ছিল যে খড়দহ থেকেই অমিত মিত্রকে উপনির্বাচনে দাঁড় করানো হবে। অমিতবাবুকে শুধু একটি জনসভআ করতে বলা হবে। বাকি প্রচার দল সামলাবে। তবে সেই প্রস্তাবে রাজি হননি অমিতবাবু। করোনা আবহে ভোটে লড়বেন না বলে জানান। এদিকে প্রস্তাবিত বিধান পরিষদ গঠনের বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা নেই। সেক্ষেত্রে পরিষদের সদস্য হিসেবে তাঁকে মনোনীত করার পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত করা যাবে না। এই আবহে পরবর্তী অর্থমন্ত্রীর খোঁজ চালু করে দিয়েছেন মমতা।