ভারতে কি সত্যিই সংখ্যালঘুরা বিপদের সম্মুখীন? বিরোধী দল থেকে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার একাংশ এমনটাই দাবি করে আসছে। তবে এই দাবি পুরোপুরি মিথ্যা বলেই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রিপাবলিক টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী সরকারি রিপোর্টের পরিসংখ্যান তুলে ধরলেন নিজের যুক্তির পক্ষে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কাউন্সিলের তরফ থেকে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে সংখ্যালঘুদের নিয়ে পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। মোদী সাক্ষাৎকারে সেই সব পরিসংখ্যান তুলে ধরেই দাবি করলেন, 'দেশে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি করা হচ্ছে। ভারতে সংখ্যালঘুরা বিপন্ন, এই চিন্তাভাবনা ত্যাগ করা উচিত।' (আরও পড়ুন: NH2 হয়ে ছুটবে স্বপ্ন? টাটাকে 'জমি না দেওয়া' সিঙ্গুর তাকিয়ে NHAI'র প্রকল্পের দিকে)
আরও পড়ুন: রাজভবনে শ্লীলতাহানির তদন্তে নয়া মোড়, বড় দাবি '১৫ মিনিট' নিয়ে, থানায় তলব ৩ জনকে
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিধ্বস্ত প্যালেস্তাইনের পাশে ভারত, রাষ্ট্রসংঘে স্থায়ী সদস্যপদের পক্ষে ভোট
প্রধানমন্ত্রী মোদী সাক্ষাৎকারে সরকারি রিপোর্টের তথ্য সামনে রেখে বলেন, '১৯৫০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে দেশে (মোট জনসংখ্যার নিরিখে) হিন্দু কমেছে ৮ শতাংশ। অপরদিকে সংখ্যালঘুদের জনসংখ্যা বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। যে ধারণা তৈরি করা হচ্ছে, তা মিথ্যা। সেই ভুল প্রচারের পর্দা ফাঁস হয়ে গিয়েছে। এই তথ্য থেকে যার যেমন মানে বের করার করতে পারে। আমি কিছু বলতে চাই না।'
আরও পড়ুন: নাম জড়িয়েছে RAW'র, পান্নুনকাণ্ডে ভারত-মার্কিন সম্পর্কে চিড়? মুখ খুললেন জয়শংকর
মোদী এরপর বলে, 'এই রিপোর্টে তথ্য যদি সত্যি হয়, তাহলে ভারতের সংখ্যালঘুদের নিয়ে যে ধারণা তৈরি করা হচ্ছে, তা ভুয়ো। দাবি করা হচ্ছে, সংখ্যালঘুদের ভারতে দাবিয়ে রাখা হয়। ভারতে সংখ্যালঘুদের কোনও কণ্ঠস্বর নেই। এই সব যে ধারণা তৈরি করা হচ্ছে... ভারতের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে... অনুগ্রহ করে সামনে এসে তা নস্যাৎ করা উচিত। সত্যিটা মেনে নেওয়া উচিত। ভারত বসুদেব কুটুম্বকম মন্ত্রে বিশ্বাসী। সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলার দেশ ভারত।'
আরও পড়ুন: 'বেজিং তৈরি...', ভারতে পা রেখেই সীমান্ত সংঘাত নিয়ে নয়া বার্তা চিনা রাষ্ট্রদূতের
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতি উপদেষ্টা কাউন্সিলের তরফ থেকে যে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে, তাতে দাবি করা হয়েছে ১৯৫০ সালে ভারতের মোট জনসংখ্যার ৮৪.৬৮ শতাংশ হিন্দু ছিল। ২০১৫ সালে তা কমে ৭৮.০৬ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ, মোট জনসংখ্যার নিরিখে হিন্দুদের সংখ্যা ৭.৮২ শতাংশ কমেছে দেশে। এদিকে ১৯৫০ সালে দেশে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ৯.৮৪ শতাংশ। ২০১৫ সালে তা বেড়ে ১৪.০৯ শতাংশ হয়েছে। মুসলিমদের জনসংখ্যা বেড়েছে ৪৩.১৫ শতাংশ।